গেলাম যেদিন রাঁচি
রামপালোয়ান হাঁচলো এমন হাঁচি
উড়লো সকল মাছি
মুক্ত হলো চাঁছি।
করিম পুরের কাজী
বলল তারে আছি আমি রাজি
বন্ধু পাতাও আজই
এক রূপেতে সাজি।
করছো নাচানাচি
সুকৌশলে দুজন কাছাকাছি
আসছে রেগে চাচি
নিয়ে লোহার কাঁচি।
থাকুক ধান্দাবাজি
সুর চড়িয়ে বলল চাচার তাজী
তোমরা হলে পাজি
ভাবছো মিছে গাজী।
সাম্প্রতিক লেখালেখিঃ
-
শব্দসাজি
-
বসন্তের কঙ্কাল
তুমি দেখছি চেয়ে আছো
পলাশ পানে বসন্ত উৎসবে
আর শুনছো প্রেয়সীর কণ্ঠে
প্রেম বিরহের সুর ও লালিত্যের কবিতা।
আমি দেখছি মৃত লাশের উপর
হাঁটছে রাজনীতির নীতিকথা
আধ পোড়া মানুষের চরম আর্তনাদ
উর্দি লুকোনোর লুকোচুরি খেলা,
দেখছি আর্তের বোবা কান্নাকে
চাদর ঢাকার অপচেষ্টা।
পলাশ আবার ফুটবে
বসন্তও ফিরবে নিশ্চিত
কবিতাও রাত জাগাবে নীরবে।
এখন পথে নামার সময়
আগুন নেভানোর সময়
অর্ধমৃত কঙ্কালের পাশে দাঁড়ানোর সময়। -
চাই শান্তি প্লাবন
তুমি দেখছি চেয়ে আছো
পলাশ পানে বসন্ত উৎসবে
আর শুনছো প্রেয়সীর কণ্ঠে
প্রেম বিরহের সুর ও লালিত্যের কবিতা।
আমি দেখছি মৃত লাশের উপর
হাঁটছে রাজনীতির নীতিকথা
আধ পোড়া মানুষের চরম আর্তনাদ
উর্দি লুকোনোর লুকোচুরি খেলা,
দেখছি আর্তের বোবা কান্নাকে
চাদর ঢাকার অপচেষ্টা।
পলাশ আবার ফুটবে
বসন্তও ফিরবে নিশ্চিত
কবিতাও রাত জাগাবে নীরবে।
এখন পথে নামার সময়
আগুন নেভানোর সময়
অর্ধমৃত কঙ্কালের পাশে দাঁড়ানোর সময়। -
আমার তত্ত্ব
সবাই বলে লিখতে গেলে চাই যে ফাঁকা ঘর
আমার কিন্তু ফাঁকা ঘরে লাগে ভীষন ডর
যেন হারিয়ে ফেলি স্বরভিড়ের মাঝেই লিখতে মজা ভিড়েই খুঁজি সুর
অনেক চোখের দৃষ্টি দিয়ে দেখি অনেক দূর
যেটা আমার অচিনপুরভেসে আসা শব্দ গুলোর মালা গাঁথি বেশ
শব্দ মালার চোখ ফুটিয়ে থামাই তুলির রেশ
আছে তাতেই সুখের লেশ।সুখের ছবি দুখের ছবি ভরায় আমার মন
তাইতো আমি নিত্য ডাকি পাড়ার আপন জন
যারা যোগায় রসদ ধন।অনেক মুখের মাঝেই আমি দেখি চেনা মুখ
চেনা মুখের সুবাস যেন নন্দে ভরায় বুক
ও যে পরম পাওয়া সুখ।এসব কথায় বিজ্ঞ জনের লাগবে জানি শুল
লেখার জন্য একলা থাকার তত্ত্ব হবে ভুল
সে ভুল আমার গোলাপ ফুল। -
খুকুর ছড়া
একটু পাশে ঘেঁষে
মুচকি হাসি হেসে
বলল বাবা
পুতুল নিবি পুতুল দেব
চল তবে যাই মেলাতে,হাত বুলিয়ে গায়ে
বলল খুকুর মায়ে
ভালো করে
লেখা পড়ায় মন দিবি রোজ
মন দিবি না খেলাতে।মন ছিল ফুরফুরে
এদিক সেদিক ঘুরে
নজর গেল
হেংলা পুতুল ছেড়ে খুকুর
মামদো ভূতের ছড়াতে,পুতুল গুলো বোবা
কেমন হাবাগোবা
তাদের ছেড়ে
হাজার ভূতের ছড়ায় খুকুর
মন মেতেছে পড়াতে।খুশির হাসি হেসে
অনেক ভালোবেসে
বলল বাবা
কি রে খুকু এবার কি তোর
ভূত ঢুকেছে মাথাতে?বলল খুকু তাঁকে
সঙ্গে শোনায় মাকে
আজগুবি সব
ভূত বলে তো নেইকো কিছু
লেখা ই বই এর পাতাতে। -
ভুলুকে তালি
জেলায় জেলায় মন্ত্রী নেতা আমলা যায়্যে দমে মিটিন করছ্যে হে
(more…)
আর হ বাপ মিটিন বটে মানত্যে হবেক।
ধমকানি চমকানি কি দিছে রে বাপ
সবাই ভয়ে চুপস্যে যাছ্যে বুড়হা ভালুকের মতন।
অফিসার গুলানকে তুই তেকারী কর্যে সততার প্রতীক
একেবারে তিল ধুনা ধুন্যে দিছে মাইরি।
ব্যাটার ফোনটতে ইসব দেখ্যে শুইনে
আমি আখাড়্যে হাততালি মারছিলি হে।
কাণ্ড দেখ্যে ব্যাটা ত রাগ্যে আগুন।
বলল্য থামো ত আর তালি মারত্যে হবেক নাই -
লিহাই চাইনা
ই কি চলছ্যে মাগো দুনিয়াটাতে
আমি ত কনহই ব্যুঝতে লারছি!
বন বন শন শন কর্যে আকাশে উড়ছ্যে জাহাজ
আর উপর থাইকেই ফেলে দিছ্যে ধড়াস ধড়াস বোমাগুলি
বারুদের ধুঁয়ায় চারদিক ট আঁধার হয়্যে যাছ্যে!
সেই কুঁখড়া লড়াই -এর মতন।
ই আগাছ্যে ত উ পিছাছ্যে – উ আগাছ্যে ত ই পিছাছ্যে
শেষে যা হবার তাই হছ্যে।কখনো রুশবাহিনী লেতাড়্যে মারছ্যে
আর কখনও ইউক্রেনও লেতাড়্যে লেতাড়্যে কাঁপাই দিছ্যে,
লিহাইটকে লাগায় দিয়্যে গলাটাকে ফাইড়ে
ঠাণ্ডা ঘরে বস্যে মন্ত্রীগুলান ভাষণ মারছ্যে,
বল্যছে লিহাই চলছ্যে চলব্যেক
ই লিহাই বাঁচার লিহাই — ই লিহাই সম্মানের লিহাই!
আমি বলছি গো আমি! চিন্তে লারছ্য?
সেই কাশ্মীরের যুদ্ধে আমার সোয়ামি মরল্য নাই,
উহার বউ! দু-ছেলার মা আমি!
বলি লিহাই মানেই ত শত শত সেনার মরণ
হাজার হাজার সরল সাদা মানুষের মরণ।
আমার মতন কত জুয়ান বউ বিধবা হবেক,
কত মায়ের বুক ফাট্যে যাবেক
কত সন্তান বাবা হারা হয়ে অনাথ হবেক।
সাধারণ মানুষের বুকে কান পাত্যে শুন – ইসব লিহাই কেউ চাই নায়
আর বলি এত লিহাই লিহাই-এর কি দরকার
সবাই বস্যে আলোচনা কর্যে সব মিটাই লাও।
তবেই ত সব ল্যাঠা চু’কে যাবেক।
ই সেই রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়
উলুখাগড়ার পেরান যায়।
আর রাজাদেরই বা বলব্য কি! উহারাও ত পুথ্যুল বঠে
খেলাটা ত খেলছ্যে মহারাজা
যে পর্দার আড়ালে মু-টা ঢুকাই
মুচকি মুচকি হাস্যে মচে তাও দিছ্যে।
আর সেই বতরে গুচ্চ্যেক শয়তান দূর থাইকেলেই –
আড় বাঁশিতে ফুঁ দিছ্যে আর হুঁকরাছ্যে।
কখনও কখনও শয়তানে শয়তানেও কলাকুলি করছ্যে ।আমি আইজ্ঞা সোয়ামি হারার যন্ত্রণা বুঝি
বুঝি বাপহারা শিশুর আঙরার মতন কলিজার বেদনা
আমি ঠাওর করেছি ব্যাটা হারা বাপের আগ্যুড়কুনে বস্যে
হুঁকরি পিঠে কাঁদনা
ঠাওর করেছি ব্যাটাহারা মায়ের আঁচল ঢাকা গুমরে মরার জ্বালা
আর ভাই হারা দাদার বুকদাবড়ি গোঙানি ।দাদা হারা বহিনের সরল মুহের আর্তনাদ
আমার বুকের পাঁজরা গুলাকে দমাড়্যে মচাড়্যে ভাইঙে দিয়েছে আইজ্ঞা
তাই হাত জোড় কর্যে মাথাটা নুয়াই
সবার কাছে লেহর করছি-
বন্ধ কর , বন্ধ কর ইসব মরণ খেলা
বন্ধ কর এমন ধ্বংস লীলা
লাক লাক মানুষের কণ্ঠস্বরকে এক করে আমি আঁড়রাই আঁড়রাই বলছি
শান্তি চাই- আমরা শান্তি চাই
আস্য সমস্ত মানুষ অশান্তির আগুনে
লদির মতন মনটা থাইকে এক আঁঝলা জল ঢাল্যে
শান্তির পতাকাটা পত্ পত্ করে উড়াই দিই! -
ভুঁইফোড় শিল্পী
হেঁ কাকা তুমি ত জানো
আমি টুকুটাকু ঝুম্যুর গান লেখি আর সুর দিই
কিন্তু যা দেখছি আর শুনছি
তাতে ত চ’খ আমার চড়ক গাছ্যে উঠ্যে যাছ্যে!
একবার কর্যে মনে হছ্যে সব কিছু ছাড়্যে –
ঘর ভিতরে কানে তুলা গুঁজ্যে বস্যে থাকিকইলকাতার কিছু ফ্যচকা ছে’লা মায়া পুরল্যার ঝুম্যুর গুলান
উলটায় পালটায় কালি ছিটাই নাম কামাই কর্যে খাছ্যে।
আর হাততালি? সে আর কি বলব কাকা –
হাত তালিতে গর্বে বুকটা ভর্যে যাবার কথা,
কিন্তুক চখ্যের জলে বুক ট ভাস্যে যাচ্ছ্যে।
পুরুল্যার লোকগানকে ডুবাই ছাড়ছ্যে যে কাকা
দেখছ্য নাইখ – শালারা ছাগল লাদাড়িকে
ছাগল দাড়ি বল্যেই চালাই দিছ্যে!
আর সেই গান ট শুন নাই –
যেটা এখন হাটে বাজারে সবার মুখে মুখে ঘুরছ্যে
“কাল জলে কুচল্যা তলে ডুবল সনাতন
আজ সারানা কাইল সারানা পাইনা দরশন”
ছিঃ ছিঃ কাকা ছিঃ ছিঃ –
ইহারা শিল্পী লয়। শিল্পীর কলঙ্ক বটে
সারানা সারানা কর্যেই পা’র কর্যে দিছ্যে
কোনো মানে নাই, অর্থ নাই।
কেউ কেউ ত বলছ্যে
‘আইজ চার আনা কাল চার আনা পাই যে দরশন’
আমার কি মনে হছ্যে জানো কাকা
ই সব শুনার থাক্যে মর্যে যাওয়া ভালো!
তুমি ত জানো কাকা আসল গান ট কি রকম-
“আলো জ্বলে কুচল্যা তলে ডুবল সনাতন
আইজ সারাদিন কাইল সারাদিন পাইনা দরশন”।
পুরুল্যা উঠল্য ন ফুটল্য
কারো কনহ যায় আসেনা কাকা।
দেখল্যে নাই, কদিন আগে
সরকার একট মদ বাজারে ছাড়্যে
নাম দিয়ে দিলেক – ‘ঝুম্যুর’!
বলি কন বউকে বলব্য ভালো,
ভাত বসায়্যে হাগত্যে গেল।
কথায় কথা বাড়্যে কাকা
আর না বলল্যেও রইতে লারি
কিছু কিছু লোক ত এখন ব্যবসা ফাঁদ্যে বসেছ্যে,
লিজে কবিতার ক টি পর্যন্ত জানে নাই
তবু ই বই সে বই থাক্যে টুকলি কর্যে
বই প্রকাশ করে নাম রাখছ্যে
‘আঞ্চলিক ভাষার আবৃত্তির কবিতা’
আর দাম রাখছ্যে – ছশ আটশ!
কিন্তু এই ব্যবসা ত বন্ধ করত্যে হবেক কাকা
দেখল্যে নাই তুমার আমার সকলের প্রতিবাদেই
মদের নাম ট সরকার হড়বড়ায়্যে বদল করল্য
তেমনি আমাদের গান – আমাদের সুর
আমাদের ভাষা – আমাদের লাচ
আমার গরব বটে – অহংকার বটে।
আর সেই অহংকারকে যারা কালি মাখায়্যে
আমাদের সমসকিতিকে যারা অপমান করছ্যে
তাদের মুহে ঝাঁটা মার্যে, মাথা ট নাড়হা কর্যে
ঘোল ঢাল্যে খালি পায়ে রাস্তায় ঘুরাত্যে হবেক।
তা না হল্যে আমাদের গরব আমাদের অহংকার
সব ধুলায় মিশে জাবেক কাকা।
পুরুল্যা ট কখনো আগু দিকে আগাবেক নাই
পিছন দিকে পড়্যে ধুলায় লটপটাব্যেক!