টিফিন মানেই হৈ হুল্লোড়
ঘাসে লুটোপুটি
টিফিন মানেই লাগামছাড়া
রোদে ছুটোছুটি।
টিফিন মানেই থালায় থালায়
ভাতের সুবাস ভাসে
দাঁত খিঁচিয়ে বিবর্ণ ডাল
খিলখিলিয়ে হাসে।
টিফিন মানেই কানামাছি
কিংবা রুমাল চুরি
গুঁতোগুতি মারামারি
খুশি ভুরি ভুরি।
সাম্প্রতিক লেখালেখিঃ
-
টিফিন মানে
-
খুব কি হতো ক্ষতি
আচ্ছা মাগো
ইচ্ছে আমার করছি অবগতি
আমি যদি হতেম প্রজাপতি
খুব কি হতো ক্ষতি?
কেমন হতো
থাকতো আমার রঙিন ডানা
করতো না কেউ উড়তে মানা
খুব কি হতো ক্ষতি?
ইচ্ছে খুশি
রঙ ছড়াতাম ফুলে ফুলে
উঠতো গাছের পাতা দুলে
খুব কি হতো ক্ষতি?
সবাই মিলে
তিন জোড়া পা দেখতো চেয়ে
খুশির জোয়ার আসতো ধেয়ে
খুব কি হতো ক্ষতি?
বলো না মা
আগলে বুকে আঁচল দিয়ে
করতে আদর কাছে নিয়ে
খুব কি হতো ক্ষতি? -
দারুণ মজা
ফুল ফুটেছে ফুল ফুটেছে
ডুমুর গাছে ফুল
মন ছুটেছে জন ছুটেছে
খুশিতে বিলকুল। আয়রে ভজা!
ফল ধরেছে ফল ধরেছে
ডুমুর গাছে ফল
ভুখ সরেছে দুখ সরেছে
নেইকো চোখে জল। দারুণ মজা!
জল ঝরেছে জল ঝরেছে
অকাল মেঘে জল
মেঘ করেছে মেঘ করেছে
আকাশ নীলে ঢল। খুশির ধ্বজা।
রঙ উঠেছে রঙ উঠেছে
রামধনুতে রঙ
ঘুম টুটেছে ধূম টুটেছে
পুব আকাশে ঢঙ। দেখবি সোজা। -
খুকির ছড়া
টিপির টিপির পড়ে জল
ডাঙায় দেখি মাছের ঢল।
জল ছেড়ে চল ঘরে চল
ঘরের ভিতর বাঁধি দল।
ঝুকুর ঝুকুর পায়ে মল
খুকির হাসি খল খল।
রাতের তারা জ্বল জ্বল
যাবি কোথায় এবার বল।
সবাই আমার পায়ের তল
দেখবি তোরা খুশির ঢল।
ঝরছে যে ঘাম গল গল
করছে শরীর টলমল।
বাড়ির নামোয় আছে পল
যাবি এবার কোথায় বল।
ঘরের মাঝে জলের কল
সবাই আমার পায়ের তল। -
বিহান রাতে
বিহান রাতে আগুড় খুলে
কে এলো রে ঘরে
মরছি আমি ডরে
একলা পেয়ে চুপি চুপি
যদি আমায় ধরে? কে এলো রে ঘরে।
শেওড়া গাছের পেত্নী বোধহয়
পড়বে আমার ঘাড়ে
ঢুকছে চুপিসারে
তারচে’ বরং লুকিয়ে পড়ি
যদি আমায় মারে! ঢুকছে চুপিসারে।
ধড়াস ধড়াস করছে আমার
চওড়া বুকের ছাতি
জানি সে প্রাণ ঘাতি
ভুলেই গেছি পালোয়ানের
আমি তো বীর নাতি, জানি সে প্রাণ ঘাতি।
সাহস করে যেই ধরেছি
ফাড়া কাঠের চ্যালা
সামাল রে তুই ঠেলা
যেই না জোরে হাঁক দিয়েছি
বন্ধ ভূতের খেলা। সামাল রে তুই ঠেলা।অমনি বলে ভয় করো না
আমি তোমার মেসো,
একটু কাছে এসো
চুপি চুপি বলবো তোমায়
কানেতে কান ঘেঁষো। একটু কাছে এসো।
মাছের চারা করতে চুরি
মধার পুকুর যাবো
পয়সা অনেক পাবো
মাছ বেচে কাল দুজন মিলে
মণ্ডা মিঠাই খাবো। পয়সা অনেক পাবো। -
পাখি
রান্না ঘরের ঘুলঘুলিতে চড়াই পাখির বাসা
নিত্য যাওয়া আসা
খুদ ছড়িয়ে মা তাকে রোজ দেয় যে ভালোবাসা।
রাত্রি হলেও যায় না বনে পাঁচিল ঘেঁষে থাকে
কার্নিসের ঐ বাঁকে
মাঝ রাতে সে মধুর সুরে মাকে নাকি ডাকে।
সকাল হলেই এদিক সেদিক বেড়ায় উড়ে উড়ে
সারা উঠোন জুড়ে
মা তাকে দেয় আদর করে গমের দানা গুঁড়ে।
মা আমাকে বলেই থাকে তুইও আমার পাখি
তুই-ই আমার আঁখি
স্নেহের আঁচল ঢাকা দিয়ে তাই তো তোকে রাখি। -
শিশুর মনে
ভরা শ্রাবণ মাসে পুকুর নদী ভাসে
টিপির টিপির জলে,
লাল দোপাটি হাসে বৃষ্টি ভেজা ঘাসে
নিত্য খেলার ছলে।
ব্যাঙ-ব্যাঙাচি ডাকে হয়তো তাদের মাকে
মিষ্টি মধুর সুরে,
পাখপাখালি হাঁকে বুড়ো গাছের ফাঁকে
এদিক সেদিক ঘুরে।
খুশির ঝিলিক ঝরে শিশুর মনের ঘরে
বাদলী হাওয়া মেখে,
বায়না কত ধরে স্বপ্ন থরে থরে
আকাশটা দেয় এঁকে।
স্বপ্নগুলো এঁকে মাকে দেখায় ডেকে
যাচ্ছে তরী ভেসে,
কোথাও বা যায় বেঁকে বালি কাদা মেখে
সবুজ হাসি হেসে।
স্বপ্ন যে যায় উড়ে যাচ্ছে পাহাড় চূড়ে
নয়তো নতুন দেশে!
দেখছি নয়ন জুড়ে আসবে আবার ঘুরে
রঙিন ছদ্মবেশে। -
বন্দি পাখি
বাবা বলে যোগাসন আর
খেলা ধূলার
সময় অনেক পাবি,
পড়াশুনায় বেশি বেশি
মন দিয়ে যা
থাকবি না অভাবী।
মা তো রোজই কানের কাছে
ঘ্যানর ঘ্যানর
পড়ার কথা বলে,
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুকে
গল্প শোনায়
শোবার সময় হলে।
মাঠে যাওয়ার ইচ্ছেগুলো
বন্দি থাকে
হাজার বইয়ের মাঝে,
কেউ বোঝে না আমার মনে
গোপনেতে
কিসের ব্যথা বাজে।
সব ছেড়ে আজ শুধাই তাদের
দাওনা বলে
তোমরা কখন খেলো,
খোলা মাঠে গিয়ে তোমরা
যোগাসনে
কখন আঁখি মেলো?
উত্তর আজও পাইনি খুঁজে
বাধ্য হয়ে
পড়া নিয়েই থাকি,
জানি আমি পাখির মতো
খাঁচা ভেঙে
দেবোই দেবো ফাঁকি। -
পথেই খুঁজি পথ
নদীর কাছে গেলাম আমি
দুখের কথা বলতে
বলল নদী শিখতে হবে
আমার মতো চলতে।
সোজা পথে হাঁটবি নাকো
হাঁটবি এঁকেবেঁকে
পথেই আছে পথের দিশা
চলবি শুধু দেখে।
সাদা কালো হাজারটা রঙ
লাগতে পারে গায়ে
ওসব চেয়ে না দেখে তুই
হাঁটবি পায়ে পায়ে।
আমার মতো পৌঁছে যাবি
স্বপ্ন সুখের দেশে
সুখ সাগরের মুক্তো গুলো
কুড়িয়ে নিবি হেসে।
নদীর কথায় হাঁটছি আমি
জটিল পথের বাঁকে
সুখের থালায় সাজিয়ে দেবো
আমার দুখী মাকে। -
কাগজের নৌকা
খাতার পাতায় নৌকা করে যেই ভাসালাম জলে
তরতরিয়ে দিঘির জলে কোথায় গেল চলে,
কোথায় গেল কেমন করে কোন সে জাদুবলে
বোঝার আগেই হারিয়ে গেল সুদূর পানে, ছলে।
ভেবেছিলাম নৌকা চড়ে যাব আমি ভেসে
মনের সুখে ঘুরবো আমি নিত্যনতুন দেশে,
ভিন দেশীদের হাজার কথা শুনবো হেসে হেসে
আমার তরী আমায় ছেড়ে গেল নিরুদ্দেশে।
জানিনা সে ফিরবে কিনা আবার আমার কাছে
নদী আমার স্বপ্নগুলো খাবে না তো পাছে!
বুকের মাঝে স্বপ্ন রাশি গোপনেতে নাচে
খাতার পাতায় মনের কথা কত লেখা আছে।
আমার কথা দেশবিদেশের সবাই যদি জানে
হয়তো তারা তাদের কথা বলবে কানে কানে,
কিংবা হাওয়ায় ছড়িয়ে দেবে ভালোবাসার গানে
নয়তো রাগে মারবে আমায় তাদের গোপন বাণে।
জানিনা কি লেখা আছে আমার পোড়া ভালে
খেলারছলে অজানা ভুল করেছি বদ তালে,
হয়তো নিজেই পড়ে গেলাম নিজের কাটা খালে
মরছি ভয়ে, জড়িয়ে গেলাম হয়তো নিজেই জালে?