Category: কবিতা

  • পথেই খুঁজি পথ

    নদীর কাছে গেলাম আমি
    দুখের কথা বলতে
    বলল নদী শিখতে হবে
    আমার মতো চলতে।

    সোজা পথে হাঁটবি নাকো
    হাঁটবি এঁকেবেঁকে
    পথেই আছে পথের দিশা
    চলবি শুধু দেখে।

    সাদা কালো হাজারটা রঙ
    লাগতে পারে গায়ে
    ওসব চেয়ে না দেখে তুই
    হাঁটবি পায়ে পায়ে।

    আমার মতো পৌঁছে যাবি
    স্বপ্ন সুখের দেশে
    সুখ সাগরের মুক্তো গুলো
    কুড়িয়ে নিবি হেসে।

    নদীর কথায় হাঁটছি আমি
    জটিল পথের বাঁকে
    সুখের থালায় সাজিয়ে দেবো
    আমার দুখী মাকে।

  • কাগজের নৌকা

    খাতার পাতায় নৌকা করে যেই ভাসালাম জলে
    তরতরিয়ে দিঘির জলে কোথায় গেল চলে,
    কোথায় গেল কেমন করে কোন সে জাদুবলে
    বোঝার আগেই হারিয়ে গেল সুদূর পানে, ছলে।

    ভেবেছিলাম নৌকা চড়ে যাব আমি ভেসে
    মনের সুখে ঘুরবো আমি নিত্যনতুন দেশে,
    ভিন দেশীদের হাজার কথা শুনবো হেসে হেসে
    আমার তরী আমায় ছেড়ে গেল নিরুদ্দেশে।

    জানিনা সে ফিরবে কিনা আবার আমার কাছে
    নদী আমার স্বপ্নগুলো খাবে না তো পাছে!
    বুকের মাঝে স্বপ্ন রাশি গোপনেতে নাচে
    খাতার পাতায় মনের কথা কত লেখা আছে।

    আমার কথা দেশবিদেশের সবাই যদি জানে
    হয়তো তারা তাদের কথা বলবে কানে কানে,
    কিংবা হাওয়ায় ছড়িয়ে দেবে ভালোবাসার গানে
    নয়তো রাগে মারবে আমায় তাদের গোপন বাণে।

    জানিনা কি লেখা আছে আমার পোড়া ভালে
    খেলারছলে অজানা ভুল করেছি বদ তালে,
    হয়তো নিজেই পড়ে গেলাম নিজের কাটা খালে
    মরছি ভয়ে, জড়িয়ে গেলাম হয়তো নিজেই জালে?

  • শব্দসাজি

    গেলাম যেদিন রাঁচি
    রামপালোয়ান হাঁচলো এমন হাঁচি
    উড়লো সকল মাছি
    মুক্ত হলো চাঁছি।
    করিম পুরের কাজী
    বলল তারে আছি আমি রাজি
    বন্ধু পাতাও আজই
    এক রূপেতে সাজি।
    করছো নাচানাচি
    সুকৌশলে দুজন কাছাকাছি
    আসছে রেগে চাচি
    নিয়ে লোহার কাঁচি।
    থাকুক ধান্দাবাজি
    সুর চড়িয়ে বলল চাচার তাজী
    তোমরা হলে পাজি
    ভাবছো মিছে গাজী।

  • বসন্তের কঙ্কাল

    তুমি দেখছি চেয়ে আছো
    পলাশ পানে বসন্ত উৎসবে
    আর শুনছো প্রেয়সীর কণ্ঠে
    প্রেম বিরহের সুর ও লালিত্যের কবিতা।
    আমি দেখছি মৃত লাশের উপর
    হাঁটছে রাজনীতির নীতিকথা
    আধ পোড়া মানুষের চরম আর্তনাদ
    উর্দি লুকোনোর লুকোচুরি খেলা,
    দেখছি আর্তের বোবা কান্নাকে
    চাদর ঢাকার অপচেষ্টা।
    পলাশ আবার ফুটবে
    বসন্তও ফিরবে নিশ্চিত
    কবিতাও রাত জাগাবে নীরবে।
    এখন পথে নামার সময়
    আগুন নেভানোর সময়
    অর্ধমৃত কঙ্কালের পাশে দাঁড়ানোর সময়।

  • চাই শান্তি প্লাবন

    তুমি দেখছি চেয়ে আছো
    পলাশ পানে বসন্ত উৎসবে
    আর শুনছো প্রেয়সীর কণ্ঠে
    প্রেম বিরহের সুর ও লালিত্যের কবিতা।
    আমি দেখছি মৃত লাশের উপর
    হাঁটছে রাজনীতির নীতিকথা
    আধ পোড়া মানুষের চরম আর্তনাদ
    উর্দি লুকোনোর লুকোচুরি খেলা,
    দেখছি আর্তের বোবা কান্নাকে
    চাদর ঢাকার অপচেষ্টা।
    পলাশ আবার ফুটবে
    বসন্তও ফিরবে নিশ্চিত
    কবিতাও রাত জাগাবে নীরবে।
    এখন পথে নামার সময়
    আগুন নেভানোর সময়
    অর্ধমৃত কঙ্কালের পাশে দাঁড়ানোর সময়।

  • আমার তত্ত্ব

    সবাই বলে লিখতে গেলে চাই যে ফাঁকা ঘর
    আমার কিন্তু ফাঁকা ঘরে লাগে ভীষন ডর
    যেন হারিয়ে ফেলি স্বর

    ভিড়ের মাঝেই লিখতে মজা ভিড়েই খুঁজি সুর
    অনেক চোখের দৃষ্টি দিয়ে দেখি অনেক দূর
    যেটা আমার অচিনপুর

    ভেসে আসা শব্দ গুলোর মালা গাঁথি বেশ
    শব্দ মালার চোখ ফুটিয়ে থামাই তুলির রেশ
    আছে তাতেই সুখের লেশ।

    সুখের ছবি দুখের ছবি ভরায় আমার মন
    তাইতো আমি নিত্য ডাকি পাড়ার আপন জন
    যারা যোগায় রসদ ধন।

    অনেক মুখের মাঝেই আমি দেখি চেনা মুখ
    চেনা মুখের সুবাস যেন নন্দে ভরায় বুক
    ও যে পরম পাওয়া সুখ।

    এসব কথায় বিজ্ঞ জনের লাগবে জানি শুল
    লেখার জন্য একলা থাকার তত্ত্ব হবে ভুল
    সে ভুল আমার গোলাপ ফুল।