চুন খসানো দেওয়ালেতে
একটা ছবি ভাসে
ভরা শ্রাবণ মাসে
কল্পনার সেই রঙিন কাঁচে
রবীন্দ্রনাথ হাসে।
ঐ দেওয়ালেই ছোট নদী
চলে আঁকে বাঁকে
যখন বলি মাকে
রবির পায়ে ফুল সাজিয়ে
মা যে তাঁকে হাঁকে।
বাবাও দেখি গুনগুনিয়ে
রবির গানে মাতে
সন্ধ্যা এবং প্রাতে
দাদু বলেন বিশ্বকবি
খেলছে তোমার সাথে।
ক্যালেন্ডারে চেয়ে দেখি
শ্রাবণ বাইশ লেখা
হয়নি আমার দেখা
কল্পনাতে জানিয়ে দিল
হিজিবিজি রেখা।
Category: Uncategorized
-
কল্পনায় রবি
-
তাল গাছ
পুকুর পাড়ে তাল পেকেছে ভরা ভাদর মাসে
হলুদ বরণ রঙ ধরেছে সুয্যি যেন হাসে
চাঁদও হাসে শিশির মেখে নীল পাহাড়ির ঘাসে।
তালের রুটি তালের বড়া মা কাকিমা করে
পাকা তালের গন্ধে ম ম করে সারা ঘরে।
চাটনি দিয়ে খেতে বসে আনন্দ না ধরে।
ফেলি নাকো তালের আঁটি লাগাই ক্ষেতের আলে
বছর বছর অর্থ দেবে কাঁচা পাকা তালে
দুহাত তুলে আপন করে তাল গাছের ঐ ডালে।
একটা পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে চেয়ে আকাশ পানে
শক্তি সাহস যোগায় যেন সুরেলা সেই গানে
মহান হওয়ার মন্ত্র খানি দেয় শিখিয়ে প্রাণে। -
সেপ্টেম্বর পাঁচ
সেপ্টেম্বরের পাঁচ তারিখটা
যখন আসে ফিরে
ছাত্র শিক্ষক যায় হারিয়ে
ভালোবাসার ভিড়ে।
গুরু শিষ্যের মত বিনিময়
চলে সারা বেলা
শিক্ষাঙ্গন হয়ে ওঠে
মুক্ত মনের মেলা।
শ্রেণি কক্ষের দেওয়ালগুলো
সাজে ফুলে ফুলে
সর্বপল্লীর ছবি খানি
সবার হৃদয় মূলে।
নাচে গানে কাব্য পাঠে
এবং ধূপের ঘ্রাণে
উথলে উঠে সবার হৃদয়
খুশির জোয়ার প্রাণে।
গুরুর পদে প্রণাম জানাই
সবাই নত হয়ে
শ্রদ্ধা ভক্তি ভালোবাসার
বন্যা আসে বয়ে। -
ছায়া
আমার সাথে হাঁটছে কেন আমার দেহের ছায়া
লম্বা ভীষণ রঙটা কালো যেন কাঠের পায়া।
সুয্যি যখন ওঠে ডোবে লম্বাটা যায় বেড়ে
ছুটলে আমি সেও ছুটে সব কিছুকে মেড়ে।
দুপুর বেলা চেহারা তার খুবই ছোট থাকে
গভীর রাতে ঘুমের ঘোরে আমায় যেন ডাকে।
কী কারণে এমন কাণ্ড শুধাই আমি কাকে
ভাবতে ভাবতে প্রশ্ন খানা ছুড়েই দিলাম মাকে।
বলল আমায় বুঝবি নাকো, বুঝবি বড় হলে
ভূগোল বই এ পড়বি যখন ছায়া কাকে বলে।
ছায়া দেখে সময় বোঝা অতি সহজ বটে
সুয্যি মামার জন্য নাকি এমন ব্যাপার ঘটে।
জানি নাকো বুঝবো কখন কখন বড় হব
নাকি আমি বরাবরই এমনি ছোট রব। -
মা ও নদী
শান্তি এবং স্বপন এসে
বলল হেসে
চল চলে যাই দূরে
একটু আসি ঘুরে।
দুপুর রোদে দিলাম পাড়ি
ছুটলো গাড়ি
অজানা কোন দেশে
যাচ্ছি যেন ভেসে।
নদীর ধারে থামলো গাড়ি
আড়াআড়ি
ডাকলো কাছে নদী
দেখবি আমায় যদি।
কান পেতে শোন আমার কোলে
আদর দোলে
খুঁজে পাবি মাকে
যেমন মায়া থাকে।
নদীর বুকের ভালোবাসা
মায়ের ভাষা
রোজই খুঁজি তাকে
রাত্রি এলেই হাঁকে।
নদী আমার মায়ের মত
নেইকো ক্ষত
মা হয়ে যায় নদী
আজও নিরবধি। -
প্রশ্ন
যাচ্ছো কোথায় এমন করে
পাখির মতো উড়ে
শরীর যাবে পুড়ে
রোদ যে উঠোন জুড়ে।কোথাও আমি যাচ্ছি না মা
রোদ টুকু নিই মেখে
বদ্ধ ঘরে থেকে
কোমর গেছে বেঁকে।ঘরে চল পড়বে এখন
খেলবে বড় হলে
দিলো মায়ে বলে
আসবে বাবা চলে।আসুক না মা বাবা আমার
মিছেই ঠেলাঠেলি
একটু খানি খেলি
আকাশে চোখ মেলি।খেলছে যারা খেলুক তারা
তুমি এসো ঘরে
রাখবো আদর করে
বুঝবে না হয় পরে।তুমি তো মা অনেক বড়
কখন কর খেলা?
হয়তো রাতের বেলা
নাকি কাজের ঠেলা? -
ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে ফুল বাগানে গিয়ে
দিই পুতুলের বিয়ে
জমকালো এক বাসর সাজাই
ফুলের তোড়া দিয়ে।রান্না করি পাথর ধুলো বালি
দেখুক নাকো মালি
বর কনেকে বরণ করি
দিয়ে বরণ ডালি।ভোজ খেয়ে যাক পাখপাখালী এসে
আনন্দে যাক ভেসে
সানাই বাজাক মৌমাছিরা
গুনগুনিয়ে হেসে।ফুলপরি এক উঠুক গেয়ে গীতি
চলুক মিলন তিথি
গাছের ছায়ায় সুখের বাতি
হোক পুতুলের প্রীতি। -
শরৎ বিকেল
ছাই রাঙা মেঘ কাশের বনে
যাচ্ছে ভেসে আপন মনে
বলছে কথা হেসে হেসে
কার সাথে কোন আপনজনে।পুব আকাশে যাচ্ছে চলে
হয়তো কোন গাছের তলে
মেঘের ভেলা ছুটছে যেন
স্বপ্ন বুকে হাসির ছলে।সূর্য দেখি যাচ্ছে ঢেকে
দুলছে যে কাশ এঁকেবেঁকে
মনের খাতায় নিচ্ছি আমি
মন তুলিতে স্বপ্ন এঁকে।কল্পনাতে একটা পাখি
উড়ছে যেন মেলে আঁখি
সবার সাথে করছি আমি
ব্যালকনিতে মাখামাখি। -
মায়ের মুখ
সবাই আমায় খারাপ বলে
বলে নি তো মায়ে
তাইতো আমি সে সব কথা
মাখি নাকো গায়ে।
কেউ বা বলে হতচ্ছাড়া
কেউ বা বলে পাজি
শুনে শুনে কান ভরে যায়
শুনতে তবু রাজি।
মা তো আমায় পাগল বলে
বলে সোনার খনি
আঁচল দিয়ে মুখ মুছে দেয়
মা যে নয়ন মনি।
পরের কথায় কি আসে যায়
মা যদি রয় পাশে
মায়ের মুখেই পৃথিবীটা
আমার চোখে ভাসে। -
আম
বন বন
শন শন
বায়ু বয় আনমনে
তাই শুনে
ছুটে যাই
দ্রুত বেগে আম বনে।
পাকা আম
চুষে খাই
চুপি চুপি ঝটপট
আঁটি তার
খেতে গিয়ে
দাঁত করে খটমট।
হায় হায়!
লাজে মরি
যদি কেউ জেনে যায় ?
কি যে করি
ভেবে ভেবে
মন করে হায় হায়!